ঘি বা ঘৃত হলো একটি বিশুদ্ধ দুগ্ধজাত চর্বি, যা দক্ষিণ এশিয়ার রান্না ও আচার-অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাধারণত গরুর দুধ থেকে মাখন তৈরি করে তা দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত করার মাধ্যমে ঘি প্রস্তুত করা হয়। উত্তাপে পানি ও দুধের কঠিন অংশ পৃথক হয়ে যায় এবং উপরিভাগে যে স্বচ্ছ সোনালি বর্ণের মাখনজাত তেল পাওয়া যায়, সেটিই ঘি।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে ঘি অত্যন্ত মূল্যবান। এতে সুষম পরিমাণে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে বিদ্যমান, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টি শক্তি উন্নতকরণ এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। ঘিতে উচ্চমাত্রার স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা পরিমিত ব্যবহারে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশে ঘি শুধু রান্নাঘরের উপকরণই নয়; এটি ধর্মীয় রীতি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা এবং ঐতিহ্যগত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খিচুড়ি, ভাত, রুটি, মিষ্টান্ন ও বিশেষ ধরনের ভাজা খাবারে ঘির ব্যবহার স্বাদ ও গন্ধকে অনন্য মাত্রা প্রদান করে।
যদিও ঘি অত্যন্ত উপকারী, তবুও এতে ক্যালরির পরিমাণ বেশি হওয়ায় তা পরিমিতভাবে গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত গ্রহণ হৃদরোগ বা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সার্বিকভাবে, ঘি একটি ঐতিহ্যবাহী, পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাদ্য উপাদান, যা সঠিক পরিমাণে ব্যবহারে দেহ ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।



Reviews
There are no reviews yet.